Voice Bangladesh কৃষি অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে ঢুকে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ শেকৃবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে - Voice Bangladesh

কৃষি অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে ঢুকে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ শেকৃবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে


ভয়েস বাংলাদেশ ডেস্ক মার্চ ১১, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
কৃষি অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে ঢুকে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ শেকৃবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে গালাগাল, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে।

 

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে খামারবাড়িস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রথম ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম মজুমদার বর্তমানে ‘ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে বি এম আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল অধিদপ্তরের প্রথম ভবনের সপ্তম তলায় অবস্থিত কক্ষ নং–৭১৭-এ প্রবেশ করে। সেখানে তারা প্রকল্প পরিচালককে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে এবং মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ড. কাইয়ূম মজুমদারের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শেকৃবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রকল্প পরিচালক “আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর” এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আলমগীর কবিরের দাবি, প্রকল্প পরিচালক আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করিয়ে থাকেন এবং তাদের দলের কিছু লোককে সেই কাজে যুক্ত করার বিষয়ে কথা বলতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো সাড়া না পাওয়ায় পুনরায় আলোচনার উদ্দেশ্যেই তার কক্ষে যাওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, আলমগীর কবিরের সঙ্গে আরও ১০–১২ জন অফিসে ঢুকে প্রকল্প পরিচালকের কাছে চাঁদা দাবি করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, ওই সময় আলমগীর কবিরের হাতে একটি ছুরি ছিল, যার কারণে উপস্থিত কর্মকর্তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে সাহস পাননি। তার অভিযোগ, মাঝে মধ্যেই তিনি বিভিন্ন কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে এ ধরনের হুমকি দিয়ে থাকেন।

ঘটনার পর থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের মতো ঘটনা “চব্বিশোত্তর নতুন বাংলাদেশে” সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।