Voice Bangladesh রাজশাহীতে গড়ে উঠছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ফুটবল তারকারা - Voice Bangladesh

রাজশাহীতে গড়ে উঠছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ফুটবল তারকারা


ভয়েস বাংলাদেশ ডেস্ক মার্চ ১৩, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে গড়ে উঠছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ফুটবল তারকারা

রাজশাহীর মাটিতে নীরবে গড়ে উঠছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ফুটবল তারকারা। প্রতিভা খুঁজে বের করা, সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে হরিয়ান ফুটবল একাডেমী। ইতোমধ্যেই এই একাডেমী থেকে উঠে এসে দেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দল ও শীর্ষ লিগে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন একাধিক ফুটবলার।

বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বয়সভিত্তিক (অনূর্ধ্ব ৮/১০/১২/১৪) হরিয়ান ফুটবল একাডেমী। প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই একাডেমীটি প্রশংসা কুড়াতে শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) থেকে ‘ওয়ান স্টার’ এবং ২০২২ সালে ‘টু স্টার’ স্বীকৃতি অর্জন করে একাডেমীটি।

শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে প্রতিভা তৈরি করে আসছে এই প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২৩ এবং সিনিয়র জাতীয় দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন একাডেমীর একাধিক ফুটবলার।

শুধু জাতীয় দলেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক লিগেও এই একাডেমীর ফুটবলাররা নিয়মিত খেলছেন। এর মধ্যে রয়েছে-অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ বিপিএল, ঢাকা পাইওনিয়ার লীগ, তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, প্রথম বিভাগ, বিসিএল এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন তারা।

বর্তমানে এই একাডেমী থেকে উঠে আসা ছয়জন প্রতিভাবান ফুটবলার বিশেষভাবে সবার নজর কেড়েছেন।

মোঃ মিঠু চৌধুরী
মাঠের পজিশন সেন্টার ব্যাক। হরিয়ান ফুটবল একাডেমী থেকেই তাঁর ফুটবল যাত্রা শুরু। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার।

তিনি ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৭, ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯, এবং পরবর্তীতে অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে ২০২৫–২৬ মৌসুমে ফর্টিস এফসির হয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) খেলছেন।

জয় আহমেদ
মাঠের পজিশন রাইট উইং। গতিময়তা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত এই তরুণ ফুটবলার বর্তমানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়।

তিনি ২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-১৬, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৭, এবং ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে বিএফএলে খেলছেন।

নাহিদুল ইসলাম শাওন
মাঠের পজিশন গোলরক্ষক। গোলপোস্টে দুর্দান্ত রিফ্লেক্স ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের জন্য ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছেন।

তিনি ২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-১৬, ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৭, এবং ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি ক্লাবের হয়ে বিএফএলে খেলছেন।

আকাশ আহমেদ
মাঠের পজিশন সেন্টার মিডফিল্ড। বল কন্ট্রোল, পাসিং এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষ এই ফুটবলার বর্তমানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

তিনি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাবের হয়ে বিসিএলে খেলছেন।

মোঃ রুহুল আমিন আকাশ
মাঠের পজিশন লেফট উইং। গতিময় আক্রমণ ও ড্রিবলিং দক্ষতার জন্য পরিচিত এই ফুটবলার।

তিনি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন এবং বর্তমানে দলের নিয়মিত সদস্য। ২০২৪–২৫ মৌসুমে বাফুফে এলিট একাডেমীর হয়ে বিসিএলে খেলেছেন।

মেজবাহুল হক
মাঠের পজিশন গোলরক্ষক। প্রতিভাবান এই গোলকিপার বর্তমানে ফকিরাপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবের হয়ে বিএফএলে খেলছেন।

এর আগে ২০২৪–২৫ মৌসুমে অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল লীগে বাংলাদেশ পুলিশ এফসির হয়ে খেলেছেন।

দক্ষ কোচিং স্টাফ
হরিয়ান ফুটবল একাডেমীর সাফল্যের পেছনে রয়েছে অভিজ্ঞ কোচিং স্টাফদের নিরলস পরিশ্রম।

মোঃ শহিদুজ্জামান কামাল – এএফসি “বি” ডিপ্লোমা

জাহিদুল ইসলাম নয়ন – এএফসি “সি” ডিপ্লোমা

মোঃ মামুন হোসেন – ডি কোচিং কোর্স

সোহাগ হোসেন পলাশ – গোলকিপার কোচ, এএফসি “সি”

ভবিষ্যতের স্বপ্ন
নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে হরিয়ান ফুটবল একাডেমী ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে বাংলাদেশের ফুটবলার তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

ধারাবাহিক এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই এই একাডেমী থেকেই উঠে আসবে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের তারকা ফুটবলার-যারা একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।