Voice Bangladesh স্ত্রী মারা গেলেও দেখতে পারেননি শেষ মুখ, তিন বছর ধরে ঘরে বন্দি বৃদ্ধ বাবা - Voice Bangladesh

স্ত্রী মারা গেলেও দেখতে পারেননি শেষ মুখ, তিন বছর ধরে ঘরে বন্দি বৃদ্ধ বাবা


ভয়েস বাংলাদেশ জুন ৪, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
স্ত্রী মারা গেলেও দেখতে পারেননি শেষ মুখ, তিন বছর ধরে ঘরে বন্দি বৃদ্ধ বাবা

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। তিন বছর ধরে বৃদ্ধ বাবাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অসুস্থ স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তার জানাজা ও দাফনেও অংশ নিতে দেওয়া হয়নি ওই বৃদ্ধ স্বামীকে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর স্ত্রীর কবর জিয়ারত করতে পারেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল (৭৫) ও মাহমুদা বেগম (৬৫) দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলেও বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৪৬) বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন। ছোট ছেলে মোস্তফা কর্মসূত্রে বরগুনায় শিক্ষকতা করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ছোট ছেলে বাইরে থাকার সুযোগে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাবার প্রায় ১৪ একর জমি নিজের নামে লিখে নেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এদিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাহমুদা বেগমের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তার মেয়েরা। রংপুর ও কুড়িগ্রামে চিকিৎসার পর গত ৩ জুন রাতে মেয়ের বাড়িতে তিনি মারা যান।

বৃহস্পতিবার সকালে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্বজনদের দাবি, এ সময় বৃদ্ধ স্বামী আব্দুল জলিলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়, যাতে তিনি স্ত্রীর শেষ বিদায়েও অংশ নিতে না পারেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের সহায়তায় মাহমুদা বেগমের দাফন সম্পন্ন করা হয়। পরে খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তার সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকা আব্দুল জলিলকে ঘর থেকে বের করা হয়। এরপর দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর স্ত্রী মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অভিযুক্ত ছেলে আব্দুল মোন্নাফও।

রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বৃদ্ধ বাবাকে অবরুদ্ধ করে রাখার এবং স্ত্রীর দাফনে অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।

একজন স্বামী শেষবারের মতো স্ত্রীর মুখ দেখতে পারেননি, জানাজায় দাঁড়াতে পারেননি। দাফনের চার ঘণ্টা পর স্ত্রীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে চোখের জল ফেলাই যেন ছিল তার শেষ বিদায়।