
বাংলাদেশের রাজনীতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, ভাষা সৈনিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র দুঃসময়ের এই কান্ডারীকে তাঁর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে যথাযথভাবে স্মরণ না করায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। বিশেষ করে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
২০০৭ সালের ১/১১ পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটে যখন বিরাজনীতিকরণের নীল নকশা চলছিল, তখন চরম প্রতিকূলতার মাঝেও দলকে রক্ষা করেছিলেন তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, তাঁর সেই আপসহীন ভূমিকার কারণেই আজ বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরতে পেরেছে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সুদিনে এসে এই ‘লৌহমানব’কে দল ও সরকার ভুলে গেছে কি না—এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
গত ১৬ মার্চ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘিওরের বাড়িতে কোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি না থাকায় হতাশ স্থানীয় সমর্থকরা। তারা বলছেন, “যদি আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয় থাকতেন, তবে দেলোয়ার হোসেনকে এভাবে অবমূল্যায়ন করা হতো না।
তৃণমূলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচিত একবারের জন্য হলেও মানিকগঞ্জে গিয়ে এই বীর সেনানীর কবর জিয়ারত করা। পাশাপাশি ১/১১-এর সময়ে তারেক রহমানের জন্য চরম নির্যাতনের শিকার হওয়া খোন্দকার দেলোয়ারের বড় ছেলে ড. খোন্দকার আকবর হোসেনকে যোগ্যতা অনুযায়ী যথাযথ মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন মানিকগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকারের নিকট জোর দাবি উঠেছে যেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষাসৈনিক খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করা হয়। নেতাকর্মীরা মনে করেন, এটি কোনো দয়া নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধিকার আন্দোলনে তাঁর অবদানের ন্যায্য স্বীকৃতি।
মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার। বিশেষ করে ১/১১-এর ক্রান্তিলগ্নে তিনি যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা দেশের যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য এক বলিষ্ঠ দৃষ্টান্ত। তৃণমূলের দাবি, দলের এই দুঃসময়ের কান্ডারীর ঋণ স্বীকার করে তাঁর পরিবার ও স্মৃতিকে যথাযথ সম্মানে ভূষিত করবে বিএনপি ও বর্তমান সরকার।
আপনার মতামত লিখুন :